আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের তেল কারখানার দুটি প্লান্টে ড্রোন হামলার ঘটনাকে আরব দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেছে আরব লীগ। এমন সময় এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হলো যখন গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের জনগণের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে আসলেও আরব লীগ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। খবর পার্সটুডে’র।
আরব লীগের সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের প্রতিশোধমূলক হামলা চলমান উত্তেজনাকে ‘বিপজ্জনক মাত্রায়’ বাড়িয়ে দিয়েছে। আরব লীগের বিবৃতিতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইয়েমেনের জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে তেহরান।
সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনে ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে গত প্রায় পাঁচ বছরে আরব লীগ ওই আগ্রাসনের নিন্দা জানানো দূরে থাক উল্টো সৌদি আরবের সমর্থনে বহুবার বক্তব্য দিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত শনিবার সকালে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও গণকমিটি ঘোষণা করে তারা তাদের দেশের ওপর গত প্রায় পাঁচ বছরের সৌদি আগ্রাসনের জবাবে দেশটির দু’টি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়, সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালিত ‘বাকিক’ ও ‘খারিস’ তেল শোধনাগারে ১০টি পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোনের সাহায্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলার পর ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি’ এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের ওপর পাঁচ বছরের আগ্রাসন ও অবরোধের যে জবাব দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ বৈধ ও স্বাভাবিক।
এদিকে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ব তেলক্ষেত্রের অগ্নিকাণ্ডে দেশটির অর্ধেক তেল উৎপাদন কমে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে। শুধু তেলের বাজারে নয় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারগুলোতেও। আর তা দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
অগ্নিকাণ্ডের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে তেলক্ষেত্র দুটি। যে কারণে একদিনে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসের উৎপাদন কমেছে দুশ’ কোটি কিউবিক ফিট।




















